Skip to main content

Posts

বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম

  সরওয়ার কামাল রোমন্থনের সুযোগ না রেখেই স্মৃতিগুলো চলভাষ পর্দার মতো অপসৃত হচ্ছে দ্রুত। ক্ষণকালের শিক্ষক নিয়ে স্মৃতিচারণ তাই দুঃসাধ্য। তবুও যেন এক্সপ্রেশনিষ্ট চিত্রকলার মতো একটি মোটা রেখা স্মৃতির কোটরে রেখাপাত করে আছে, যেখানে স্পষ্ট অবয়বে উঁকি দিচ্ছে আমাদের সময়ের বিখ্যাত বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম। তার মহিমা সম্পর্কে প্রীতিবোধ নেই এমন ছাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরল। কারণ যে ক'জন ফ্ল্যাগশিপ স্কলার ও শিক্ষকের সুনাম গেয়ে ছাত্ররা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাণ্ড বিচার করতো, উনি ছিলেন তাদের অন্যতম। আমি নিজে উনার সরাসরি ছাত্র নই। প্রথমদিকে উনি ঠিক কী বিষয় পড়ান তাও জানতাম না। একদিন শুনলাম, আমাদের ডিপার্টমেন্টের শাহীন স্যার ওনার অধীনে গবেষণা করছেন, গণিত ও যুক্তিবিদ্যার সম্পর্কের ওপর। স্যার হিসেবে শাহীন স্যারকে আমরা একজন নিবিড় পাঠমগ্ন শিক্ষক হিসেবে জানতাম। তাই স্যারের গবেষণা এবং তার সুপারভাইজারের মার্গীয় অবস্থা সম্পর্কে আমাদের সমীহ ভাব ছিল। এরইমধ্যে একদিন লাইব্রেরি অডিটরিয়ামে এক সেমিনারে যোগ দিই, যেখানে বক্তা ছিলেন জামাল নজরুল ইসলাম। দেখলাম তিনি মহাবিশ্বের নানা বিষয়আশয়, গ্যালাক্সির ব্যাপ...

'অনুসন্ধান'-এর ভূমিকা

হাসান মুরাদ ছিদ্দিকী সর্বমহলে কম পরিচিত হলেও পাঠক মহলে সমাদৃত লেখক। তিনি ইতিপূর্বে দুইটি বই প্রকাশ করেছেন। তার তৃতীয় প্রবন্ধ সংকলন ‘অনুসন্ধান’, তৃতীয় চোখ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হলো। অনুসন্ধানে সন্নিবেশিত প্রবন্ধগুলো মূলতঃ সাহিত্য পর্যালোচনামূলক, যাতে প্রসঙ্গক্রমে স্থান পেয়েছে দশটি টপিক, যার চারটি আহমদ ছফা নিয়ে। সমকালীন বাংলায় বুদ্ধিজীবীতার আদর্শ বলে বিবেচিত আহমদ ছফা ছাড়াও বইটিতে আবদুর রশিদ ছিদ্দিকী, গ্যোয়েটে, লিটলম্যাগ, রোহিঙ্গা সংকট এবং কক্সবাজারের স্থানীয় সাহিত্যিক পরিমণ্ডল নিয়ে লেখকের অনুধ্যানী ভাবনা বিধৃত হয়েছে। এতে তিনি অনুসন্ধান করেছেন, ছফার চিন্তার ব্যাপ্তি, গভীরতা, জ্ঞানতাত্ত্বিক সততা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং কালোত্তীর্ণতা। বিপরীতে সমকালীন লেখকদের চিন্তার দৈন্য, সাহস ও সততার সংকট এবং সর্বোপরি, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান নিয়ে লেখক তার জায়গা থেকে স্বীয় অভিমতও ব্যক্ত করেছেন। আহমদ ছফার একজন মুগ্ধ পাঠক হিসেবে তিনি ছফাকে দেখেছেন, অন্য অনেকের মতোই, আপসহীন লড়াকু বুদ্ধিজীবী হিসেবে। যে কোন বিচারে আহমদ ছফা বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ট লেখকদের একজন। সলিমুল্লাহ খানের মতে “মীর মশাররফ ...

চাটগাঁর ভাষা পরিস্থিতি এবং আবদুর রশিদ সিদ্দিকী

সরওয়ার কামাল Language is a dialect with an army and a navy         -Max Weinreich চাটগাঁর ভাষা পরিস্থিতির (সস্যুর, ২০১১: ১০১) [1] ওপর আলোকপাত করলে যে কয়টি মৌলিক প্রশ্ন ফণা তুলে আসে, তার একটি চাটগাঁইয়া ভাষার স্বাতন্ত্র্য নিয়ে। মাগধী প্রাকৃতের দুহিতা কিংবা মাগধী প্রাকৃতের অপভ্রংশ (মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃতের অপভ্রংশ) [2] হিসেবে চাটগাঁইয়া ভাষা বাঙলার উপভাষা কিনা, এই বিষয়ে ভাষাবিদ্যার দিগবলয়ে পাণ্ডিত্যের নিশান উড়ানো মহারথিগণ নির্বিবাদে একমত। তারা অন্তত এই বিষয়ে একমত যে, চাটগাঁইয়া ভাষা বাঙলার উপভাষা। ভাষাতাত্ত্বিকদের মধ্যে জর্জ গ্রিয়ার্সন, জে ডি এন্ডার্সন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুকুমার সেন, পরেশ্চন্দ্র মজুমদার, মুহম্মদ এনামুল হক, ড. মনিরুজ্জামান এবং সলিমুল্লাহ খান প্রমুখের ধারণা, চাটগাঁইয়া ভাষা বাঙলারই উপভাষা। ভাষাতাত্ত্বিক মহাম্মদ দানীউল হকও মনে করেন, যতক্ষণ একটি ভাষার ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্যাবলি কোন জননী ভাষার আশ্রয়ী থাকে, ততক্ষণ সে ভাষাকে স্বতন্ত্র ভাষা বলার সুযোগ নেই। [3] তাদের এই ধারণার প্রধান উৎস জর্জ গ্র...