সরওয়ার কামাল স্থিরতার ছদ্মবেশে আমাদের চারপাশের বিশ্বচরাচর প্রতিনিয়ত অস্থির ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে। এটি কেবল বিশ্বগোলকের আবর্তন নয়; নয় রাজনৈতিক তর্কের কোলাহল কিংবা অর্থনৈতিক গ্রাফের ওঠানামার হিসাব। এই অস্থিরতা দৃশ্যমান খোদ মানুষের যাপিত জীবন, তার দৈনন্দিন শ্রম, সম্পর্ক ও অস্তিত্বের লড়াইয়ের সূক্ষ্ম সামাজিক প্রক্রিয়ায়। পোলিশ সমাজবিজ্ঞানী জিগমুন্ট বাউম্যান এই প্রবণতাকে চিহ্নিত করেছিলেন লিকুইড মডার্নিটি বা তরল আধুনিকতা বলে। এটি এমন এক সমাজপরিবেশ, যেখানে যেকোনো স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, মানবীয় সম্পর্ক, নিজস্ব পরিচয় এবং কাজের নিশ্চয়তা চোখের পলকে স্বরূপ বদলে ফেলে। তরল জলের মতো যার কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই। কোনো দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের পরিবর্তে সম্পর্কগুলো তৈরি হচ্ছে শর্তহীনতার শর্তে; টিকে আছে আরোপিত নমনীয়তা ও আপসে। ফলত নিশ্চিত আশ্রয়ের জায়গায় দেখা দিচ্ছে অচেনা অনিশ্চয়তা। শ্রমিকের যে শ্রম একসময় কারখানা প্রাঙ্গণে নির্দিষ্ট সময়সীমায়, দৃশ্যমান মালিকের চোখ রাঙানি কিংবা চুক্তির অধীনে বাঁধা ছিল, উত্তরাধুনিক পুঁজি তাকে ধোঁয়াশার মতো বায়বীয় করে দিয়েছে। চাকরির শর্ত, স্থায়িত্ব, কর্মপদ্ধতির রূপান্তর, দক্ষতার পরিবর্তনশ...
সরওয়ার কামাল বাংলাদেশের উপকূলীয় ১৯ জেলায় জলবায়ুজনিত বিপদাপদ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মাত্রা এখন খালি চোখেই আঁচ করা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব ভৌত পরিবর্তন ঘটছে তার প্রভাব সরাসরি পড়ছে উপকূলীয় সমাজ, অর্থনীতি, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, লবণপানির হানা, এবং প্যারাবন উজাড়ের কারণে উপকূলীয় সমাজে বহুমাত্রিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দৃশ্যমান পরিবর্তনের অন্তরালে যে ঝুঁকিসমূহ নীরবে ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, তা হলো শিক্ষাক্ষেত্রে প্রান্তিকীকরণের ঝুঁকি। তাই উপকূলীয় শিক্ষার্থীদের জন্য দরকার বিশেষ ধরনের শিক্ষাদর্শন। এ সময়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডায় সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় চতুর্থ নম্বরেই রয়েছে 'সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা এবং যাবজ্জীবন শিক্ষার সুযোগ’। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, বহুমাত্রিক দারিদ্র্য, অপুষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কাঠামোগত প্রান্তিকীকরণের মতো নানা প্রতিবন্ধকতা। এসব প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে ‘ক্ষতিপূরক শিক্...