Skip to main content

Posts

উপকূলীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিপূরক শিক্ষা

সরওয়ার কামাল বাংলাদেশের উপকূলীয় ১৯ জেলায় জলবায়ুজনিত বিপদাপদ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মাত্রা এখন খালি চোখেই আঁচ করা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব ভৌত পরিবর্তন ঘটছে তার প্রভাব সরাসরি পড়ছে উপকূলীয় সমাজ, অর্থনীতি, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, লবণপানির হানা, এবং প্যারাবন উজাড়ের কারণে উপকূলীয় সমাজে বহুমাত্রিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দৃশ্যমান পরিবর্তনের অন্তরালে যে ঝুঁকিসমূহ নীরবে ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, তা হলো শিক্ষাক্ষেত্রে প্রান্তিকীকরণের ঝুঁকি। তাই উপকূলীয় শিক্ষার্থীদের জন্য দরকার বিশেষ ধরনের শিক্ষাদর্শন।   এ সময়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডায় সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় চতুর্থ নম্বরেই রয়েছে 'সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা এবং যাবজ্জীবন শিক্ষার সুযোগ’। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, বহুমাত্রিক দারিদ্র্য, অপুষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কাঠামোগত প্রান্তিকীকরণের মতো নানা প্রতিবন্ধকতা। এসব প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে ‘ক্ষতিপূরক শিক্...
Recent posts

মানবাধিকার হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা

সরওয়ার কামাল বিপন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতি, সংহতি ও সহযোগিতা একটি সহজাত মানবীয় প্রবণতা, যার প্রভাবে সমাজপত্তনের সূচনাকাল থেকেই মানুষ নানাবিধ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে প্রবৃত্ত রয়েছে। যে কোনো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে মানবিক সাড়াদানের ধরন হিসেবে ভিক্ষা, ঋণ, ত্রাণ, যাকাত, দাতব্য চিকিৎসা, এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য সহায়তা প্রদানের চল রয়েছে। কালানুক্রমে বিবর্তিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যেও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম রাষ্ট্রের মৌলিক সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে অক্ষুণ্ণ রয়েছে। আধুনিক বিশ্বে প্রচলিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যোগ রয়েছে জার্মানির বিসমার্ক কর্তৃক প্রবর্তিত কল্যাণরাষ্ট্রের ধারণার। তিনি ১৮৮০ সালে য়ুরোপে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য, দুর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব ও বার্ধক্যকেন্দ্রিক ঝুঁকি নিরসনে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। বাংলাদেশেও স্বাধীনতাত্তোরকালে ত্রাণ কার্যক্রম হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু হয়। তা আশির দশকে সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ২০১৫ সাল থেকে কৌশলগতভাবে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে রূপ নিয়েছে। বর্তমান ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯০টি সা...

ইসলামি শৈল্পিক ঐতিহ্য

সরওয়ার কামাল কাতারের রাজধানী দোহায়, পারস্য উপসাগরে কৃত্রিম দ্বীপে, নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত 'মিউজিয়াম অভ ইসলামিক আর্টস' সাংস্কৃতিক পর্যটনের এক আকর্ষণীয় স্থান। ইসলামি শিল্প-সংস্কৃতির এই অপূর্ব সংগ্রহশালার নকশা করেছেন বিখ্যাত চীনা-মার্কিন স্থপতি আই এম পেই। যিনি নকশার সাংস্কৃতিক চেতনা আত্মস্থ করার জন্যই পরিভ্রমণ করেছেন মুসলিম বিশ্বের নানা প্রান্ত। জ্যামিতিক বিশুদ্ধতায় নিপুণ কুশলে নির্মিত ভবনে সূর্যালোক যেন রেম্ব্রান্ট চিত্রকলার মতো কিরণকেলিতে মাতে সারাদিন। ধবল মুক্তো রঙের পাথরে নিপাট পারিপাট্যে সজ্জিত জাদুঘরটি ২০০৮ সালের ২২ নভেম্বর উদ্বোধন করা হয়। এতে ৭ম শতক থেকে ২০শ শতক পর্যন্ত প্রায় চৌদ্দশো বছরের ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতির দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। মূলত তিনটি মহাদেশ থেকে সংগৃহীত ধাতব শিল্প, মৃৎশিল্প, গহনা, কাঠ ও বস্ত্রশিল্প, কাঁচের শিল্পকর্ম, মুদ্রা এবং দুর্লভ পাণ্ডুলিপি স্থান পেয়েছে। শুরুতেই জাদুঘরের নিচতলায় ইসলামি খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে উঁকি দিলাম। ইসলামে খাদ্যকে শুধু উদরপূর্তি নয়, বরং রোগনিরাময়ের একটি কৌশল হিসেবে ভক্ষণ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। খাদ...

মহেশখালীর সমাজ ও সংস্কৃতি

সরওয়ার কামাল সাগর কূলে গিরিকুন্তলা মোহিনী মহেশখালী দ্বীপের ৩৮৮ বর্গকিলোমিটার ভূত্বকে প্রায় পাঁচ লক্ষ লোকের বসতি। তাদের বসতি ঘিরে গড়ে উঠেছে উপকূলীয়-দ্বীপাঞ্চলীয় সমাজ। এই সমাজসভ্যদের মানসিক ঐক্য ও জীবনযাপন পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছে শনাক্তযোগ্য বিশেষ স্থানীয় সংস্কৃতি। মানবজাতির চিরকালীন অভিযাত্রার অংশ হিসেবে দেশের নানা জায়গা থেকে হিজরত করে লোকজন এসে বসতি গেড়েছে মহেশখালীতে। তাই তাদের ভাষা ও আচরণে শনাক্ত করা যায় এমন বৈচিত্র্য ও তারতম্য, যা দিয়ে কক্সবাজারের অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের তুলনায় মহেশখালীবাসীকে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করা যায়। যে পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ঠ্যাবলী নিয়ে মহেশখালীর সমাজ ও মানুষের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য তৈরি হয়েছে, চাটগাঁইয়া ভাষার উপভাষাতুল্য মহেশখালীর দ্বীপাঞ্চলীয় বুলি তার মধ্যে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। [1] তবে সমস্যা হলো, লিখিত সাহিত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অভাবে স্থানীয় ইতিহাসের মতোই কালিক সূচকের নিরিখে এর জনসংস্কৃতি বর্ণনা করা দুরূহ। একেতো সংস্কৃতি স্বয়ং একটি ব্যাপক ধারণা, তদুপরি, এটি সতত পরিবর্তনশীল। ভাষা ও সংস্কৃতি স্রোতস্বী নদীর মতো বহমান। মানুষের কথা, স্মৃতি, পুরা...