Skip to main content

Posts

ভাষা-শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকতা প্রসঙ্গে সলিমুল্লাহ খান

সরওয়ার কামাল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতে সাম্প্রদায়িকতার একটি নতুন রূপ দেখা দেয়, যা সমকালীন সমাজ ও রাজনীতি ছাড়িয়ে বাঙলা সাহিত্য অবধি বিস্তার লাভ করেছিল। এই সাম্প্রদায়িকতার বীজ রোপিত হয়েছিলো ঔপনিবেশিক যুগের ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে, যখন প্রাচ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতা দ্বারা তাড়িত হয়ে উইলিয়াম জোনস, উইলিয়াম ক্যারি, নাথানিয়েল ব্রাসি হালেদ এবং চার্লস উইলকিন্স কিছু সংস্কৃত পণ্ডিতের সহযোগিতায়, সংস্কৃতের অনুকরণে, বাঙলা ভাষার সংস্কার সাধন করছিলেন। তারা সংস্কৃতের ছাঁচে ভাষাবিধি ও শব্দভাণ্ডার তৈরি করেছিলেন। তারই প্রভাবে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভাষার সাথে নবায়িত বাঙলা ভাষার কৃত্রিম বিচ্ছেদ সম্পন্ন হলো। তুর্কি, আরবি ও ফারসি শব্দ যোগে গঠিত বাগবিধি এবং ইতিহাস পরম্পরায় বিবর্তিত ভাষা থেকে লোপ পেলো বাঙলার স্থানীয় লৌকিক রূপ এবং ধর্ম-বর্ণের বৈচিত্র্য। তাতে করে একধরনের সংস্কৃত প্রভাবিত মান ভাষা তৈরি হলো। এটা ছিল ভাষায় সাম্প্রদায়িকতা আমদানির ঔপনিবেশিক প্রয়াস। যারা এই ভাষা পরিস্থিতিকে গ্রহণ করেছিল, তাদের কাছে আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহার করা একটি ধর্মীয় চমক ও নতুনত্বের বাহাদুরি বলে গণ্য হলো। অথচ কে না জানে, ইংরেজ বেনিয়ার...

মহেশখালীর ইতিহাস: পুরাণ, মানে ও বাস্তবতা

সরওয়ার কামাল *   মহেশখালীর ইতিহাস চট্টগ্রামের অন্যান্য অঞ্চলের মতোই তিমিরাবৃত, আজ অবধি অবহেলিত, বলা যায় প্রায় অনুদ্ঘাটিত; তাই সার্বিক অর্থে অসম্পূর্ণ। শুধু মহেশখালী নয়, বৃহত্তর পরিসরে চট্টগ্রাম প্রসঙ্গেও এমন লিখিত বর্ণনা পাওয়া যায় না, যা স্থানীয় ইতিহাসের নমুনা হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘকালব্যাপী বাংলা, ত্রিপুরা ও আরাকানের ত্রিমুখী দ্বন্ধে সদাপরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ভূগোলে মহেশখালীর অবস্থান ছিল অতিশয় গৌণ, প্রান্তবর্তী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বসতিবিহীন । টলেমি, চেঙ্গ হো, ইবনে বতুতা, জন ডি সিলভেইরা, সিদি আলি ছেহলভি, রালফ ফিচ, সেবাস্টিয় ম্যানরিক এবং সিজার ফ্রেডেরিক প্রমুখ বিদেশি পরিভ্রাজকের দিনলিপিতে উল্লেখ না থাকায় মধ্যযুগের ইতিহাসে এই দ্বীপের হদিস পাওয়া যায় না। জে ডি বারোস, জেমস রেনেল ও ফ্রান্সিস বুকানন যদিও এই দ্বীপের কথা উল্লেখ করেছেন, তবুও বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেইসব নামের ভিন্নতা, যা দিয়ে তারা মহেশখালীকে নির্দেশ করতে চেয়েছেন। ইতিহাসে উল্লেখিত বেশকিছু নাম সম্ভাব্য মহেশখালী বলে অনুমান করা যায়, যার মধ্যে মাছু, বাকাল, বাকোলা, মৈনাক, মাছুখালী, মেক্সাল, মাছখালী, মহিষখালি ও মহেশ...