Skip to main content

Posts

উত্তরাধুনিক আমলাতন্ত্র

সরওয়ার কামাল কথামুখ আমলাতন্ত্র হলো রাষ্ট্র শাসনের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত , যার প্রাতিষ্ঠানিক দার্ঢ্যতা , কর্মকৌশলগত ধারাবাহিকতা ও কাঠামোগত জাড্যতাকে লৌহ - পিঞ্জরের সাথে তুলনা করা হয়। বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীতে আমলাতন্ত্রের উদ্ভব ঘটেছে আট হাজার বছর পূর্বে। ভারতীয় সভ্যতায় মৌর্য শাসনকাল থেকেই সুগঠিত আমলাতন্ত্র চলে আসছে। সেই তুলনায় পাশ্চাত্যে আমলাতন্ত্রের উন্মেষ ঘটে কিছুটা বিলম্বে;   পশ্চিমা দর্শনের বুদ্ধিবাদি ঐতিহ্যের যৌক্তিক ফসল হিসেবে। তবে আধুনিক আমলাতন্ত্র উত্তরাধুনিক অভিঘাতে তার সেই লৌহকঠিন রূপ হারিয়ে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদ ও সংগঠনতাত্ত্বিকরা মুক্ত-সমাজ এবং অর্থপূর্ণ জীবন নিশ্চিতকরণে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শুরু করলে, তাদের সাথে সুর মিলিয়ে অনেকেই যুক্তির ভিত্তিতে ন্যায় এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে মানুষের স্বাধীনতা ও মানবতার মুক্তিকামী আধুনিক চিন্তাকে মিথ বলে অভিহিত করতে থাকে। তদুপরি , তাদের কাছে এই মিথ শেষতক চূড়ান্ত ত্রাসে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হলে , তারা প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে । এক পর্যায়ে তারা অনুধাবন করে , মুক্তির পথ উন্মুক্ত করতে গিয়ে বুদ্ধি সর...

বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম

  সরওয়ার কামাল রোমন্থনের সুযোগ না রেখেই স্মৃতিগুলো চলভাষ পর্দার মতো অপসৃত হচ্ছে দ্রুত। ক্ষণকালের শিক্ষক নিয়ে স্মৃতিচারণ তাই দুঃসাধ্য। তবুও যেন এক্সপ্রেশনিষ্ট চিত্রকলার মতো একটি মোটা রেখা স্মৃতির কোটরে রেখাপাত করে আছে, যেখানে স্পষ্ট অবয়বে উঁকি দিচ্ছে আমাদের সময়ের বিখ্যাত বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম। তার মহিমা সম্পর্কে প্রীতিবোধ নেই এমন ছাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরল। কারণ যে ক'জন ফ্ল্যাগশিপ স্কলার ও শিক্ষকের সুনাম গেয়ে ছাত্ররা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাণ্ড বিচার করতো, উনি ছিলেন তাদের অন্যতম। আমি নিজে উনার সরাসরি ছাত্র নই। প্রথমদিকে উনি ঠিক কী বিষয় পড়ান তাও জানতাম না। একদিন শুনলাম, আমাদের ডিপার্টমেন্টের শাহীন স্যার ওনার অধীনে গবেষণা করছেন, গণিত ও যুক্তিবিদ্যার সম্পর্কের ওপর। স্যার হিসেবে শাহীন স্যারকে আমরা একজন নিবিড় পাঠমগ্ন শিক্ষক হিসেবে জানতাম। তাই স্যারের গবেষণা এবং তার সুপারভাইজারের মার্গীয় অবস্থা সম্পর্কে আমাদের সমীহ ভাব ছিল। এরইমধ্যে একদিন লাইব্রেরি অডিটরিয়ামে এক সেমিনারে যোগ দিই, যেখানে বক্তা ছিলেন জামাল নজরুল ইসলাম। দেখলাম তিনি মহাবিশ্বের নানা বিষয়আশয়, গ্যালাক্সির ব্যাপ...

'অনুসন্ধান'-এর ভূমিকা

হাসান মুরাদ ছিদ্দিকী সর্বমহলে কম পরিচিত হলেও পাঠক মহলে সমাদৃত লেখক। তিনি ইতিপূর্বে দুইটি বই প্রকাশ করেছেন। তার তৃতীয় প্রবন্ধ সংকলন ‘অনুসন্ধান’, তৃতীয় চোখ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হলো। অনুসন্ধানে সন্নিবেশিত প্রবন্ধগুলো মূলতঃ সাহিত্য পর্যালোচনামূলক, যাতে প্রসঙ্গক্রমে স্থান পেয়েছে দশটি টপিক, যার চারটি আহমদ ছফা নিয়ে। সমকালীন বাংলায় বুদ্ধিজীবীতার আদর্শ বলে বিবেচিত আহমদ ছফা ছাড়াও বইটিতে আবদুর রশিদ ছিদ্দিকী, গ্যোয়েটে, লিটলম্যাগ, রোহিঙ্গা সংকট এবং কক্সবাজারের স্থানীয় সাহিত্যিক পরিমণ্ডল নিয়ে লেখকের অনুধ্যানী ভাবনা বিধৃত হয়েছে। এতে তিনি অনুসন্ধান করেছেন, ছফার চিন্তার ব্যাপ্তি, গভীরতা, জ্ঞানতাত্ত্বিক সততা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং কালোত্তীর্ণতা। বিপরীতে সমকালীন লেখকদের চিন্তার দৈন্য, সাহস ও সততার সংকট এবং সর্বোপরি, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান নিয়ে লেখক তার জায়গা থেকে স্বীয় অভিমতও ব্যক্ত করেছেন। আহমদ ছফার একজন মুগ্ধ পাঠক হিসেবে তিনি ছফাকে দেখেছেন, অন্য অনেকের মতোই, আপসহীন লড়াকু বুদ্ধিজীবী হিসেবে। যে কোন বিচারে আহমদ ছফা বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ট লেখকদের একজন। সলিমুল্লাহ খানের মতে “মীর মশাররফ ...